আর কত সুবিধা চান সরকারি চাকরিজীবীরা অর্থমন্ত্রী!

সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।সরকারি চাকরিজীবীরা আর কত সুবিধা চান এমন প্রশ্ন রেখে অর্থমন্ত্রী বলে, সরকারি চাকুরেদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বর্তমান সরকার দিয়েছে এর আগে তারা তা জীবনে চোখে দেখিনি। বেতন ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষত নবীন কর্মকর্তারা যেন একটি ফ্ল্যাট বা গৃহের মালিক হতে পারেন সে দিকে লক্ষ রেখে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়ার বিষয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যেকোনো স্থানে গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। সহনীয় ও পরিশোধযোগ্য সুদে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঋণ দেয়া হবে বলে জানান মুহিত।তিনি বলেন, আশা করি, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সরকারি সেবা প্রদানে কর্মচারীরা আরও উদ্যমী হবেন।এদিকে এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মেজাজ হারান অর্থমন্ত্রী। একপর্যায়ে ক্ষোভের কারণে তাকে চশমা খুলে ফেলতে দেখা যায়।সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল-ব্যাংকিং খাতে কর্পোরেট কর কমানো, ছোট ফ্ল্যাটে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় বাড়ানো ও দেশে আয় বৈষম্য বিষয়ে। এমন প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সংবাদ সম্মেলনটা একবারে ছিলি (সস্তা) বিষয়ে পরিণত হচ্ছে। এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে যা মিনিংলেস (অর্থহীন)।সাংবাদিকদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনাদের যখন জন্ম হয়েছে কিংবা জন্মের আগে,দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। বোঝেন, কোথায় ছিল বাংলাদেশ এবং এখন কোথায় এসেছে? দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশ। ৭ বছর আগে সাড়ে ৩০ শতাংশ দরিদ্র ছিল, আজ ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর যারা চূড়ান্ত গরিব, তাদের সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ। এখন ১১ শতাংশ। কিন্তু সেটা আপনাদের চোখে পড়ে না?তিনি বলেন, দেশে আয় বৈষম্য মোটেও বাড়েনি। যারা পরিবর্তনে বিশ্বাস করে না, তারাই এ ধরনের প্রশ্ন করেন। তিনি আরো বলেন, কেউ কেউ মনে করে আমি হয়তো বাংলা বুঝি না। আমি বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি, বাংলা ভালোই বুঝি।বাজেট নিয়ে কিছু গণমাধ্যম আপত্তিকর সংবাদ ছাপিয়েছে উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, কিছু কিছু পত্রিকা এটাকে ভুয়া বাজেট বলছে। বাজেট কি করে ভুয়া হয়? যারা নির্বোধ তাদের জন্যই এটা ভুয়া বাজেট।বাংলাদেশ জার্নাল/জেডএইচ/