নাকের পলিপাসের কারণ ও চিকিৎসা…

স্বাস্থ্য ডেস্ক: নাকের পলিপাস বলতে সাধারণভাবে নাকের ভেতরের এক ধরনের মাংসপিণ্ডকে বোঝানো হয়। এটি দুই নাকেই হতে পারে এবং দেখতে স্বচ্ছ। নাক এবং সাইনাসের আবরণী কোষ হতে উৎপন্ন হওয়া আঙ্গুর ফলাকৃতির এক ধরণের মাংসপিন্ডই পলিপাস।

এগুলো সাধারণত মসৃণ এবং ফ্যাকাসে বা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে। নাকের পলিপাস অতি পরিচিত একটি সমস্যা। কিন্তু নাক বন্ধ থাকা মানেই নাকে পলিপাস আছে এ ধারণা ঠিক নয়।

নাকে পলিপাস হওয়ার কারণ

পলিপাস কেন হয় তার সঠিক কারণ এখনো অজানা। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি জনিত কিংবা দীর্ঘ মেয়াদি নাক ও সাইনাসের প্রদাহই এর প্রধান কারণ। এক-তৃতীয়াংশ রোগীর ক্ষেত্রে সঙ্গে হাঁপানিও থাকে। দুই শতাংশ ক্ষেত্রে ঋতু পরিবর্তনজনিত অ্যালার্জি দায়ী।

কীভাবে বুঝবেন নাকে পলিপাস হয়েছে

নাকে পলিপাস থাকলে ঘন ঘন যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে থাকে তা হলো: নাক বন্ধ থাকা-এক বা দুই নাসারন্ধ্র একসঙ্গে বন্ধ থাকতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া, বেশি হাঁচি পাওয়া, নাকে কোনো গন্ধ না পাওয়া, মাথাব্যথা থাকা, নাকিসুরে কথা বলা, মুখ হা করে ঘুমানো ইত্যাদি। এই সমস্যাগুলো বারবার হলে একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞকে দিয়ে ভালো করে নাক পরীক্ষা করে নিলেই বিষয়টি ধরা পড়বে।

নাকে পলিপাস হলে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে –

নাক বন্ধ থাকা
নাক দিয়ে পানি পড়া
বেশি হাঁচি পাওয়া
নাকে কোনো গন্ধ না পাওয়া
মাথাব্যথা থাকা
নাকিসুরে কথা বলা
মুখ হা করে ঘুমানো

চিকিৎসা

নাকের পলিপাসের চিকিৎসা হলো অপারেশন। অপারেশন করলে সাধারণত নাকের পলিপাস ভালো হয়ে যায়। তবে এই পলিপাস বার বার হতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে কয়েকবার অপারেশন করা লাগতে পারে। এলার্জি থেকে দূরে থাকলে এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

বিনা অস্ত্রোপচারেও ঔষধের মাধ্যমেও অনেক সময় পলিপাসের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব। অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ঔষুধের মাধ্যমে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করে এ চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া পলিপাসের চিকিৎসায় স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা হয়। এতে পলিপাসের আকার ছোট হয়ে আসতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা কমে যায়।