প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন, সেই চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারে অভিযান….

 

বিচারের নামে জনসম্মুখে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর।
এরই মধ্যে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নির্যাতিত প্রবাসীর স্ত্রীর পক্ষে দায়েরকৃত মামলায় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় চেয়ারম্যানের নাম এজাহারভুক্ত না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার ওই সালিশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজর মীর বলেন, সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রী নির্যাতন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা আসে। দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করেছেন।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কার্নিজ আফরোজকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে কমিটি।
পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে গত ৩১ জুলাই রাতভর এবং ১ আগস্ট সালিশ ডেকে বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামের সামছু ব্যাপারীর ছেলে প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী ৪ সন্তানের জননীকে প্রকাশ্যে নির্যাতন চালায় চার দেবর। তারা হলো- সাইফুল, বাবুল, মিন্টু ও মোস্তাক।
ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এরই মধ্যে সাইফুল ও বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত মিন্টু এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।