বেশি দামে সিম বিক্রি করছে ঝিনাইদহের টেলিটক ডিলার…

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ থেকেঃ
টেলিটকের স্লোগান হচ্ছে “স্বপ্ন হাসিমুখের”। কিন্তু গ্রাহকদের আর হাসিমুখ থাকছে না। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় সিম কিনতে গিয়ে তাদের স্বপ্নময় হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। ঝিনাইদহে টেলিটকের সিম বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্যাকেটের গায়ে ৭০ টাকা লেখা থাকলেও খুচরা সিম বিক্রেতারা ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্রেতাদের অভিযোগ ডিলাররা তাদের কাছে প্রতিটি সিম একশ টাকা করে বিক্রি করছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান চালিয়ে সত্যতা মিলেছে। শৈলকুপার খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন তাদের কাছে চড়া দামে সিম বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে তারাও গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি মুল্য নিচ্ছেন। সরকারী মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান “টেলিটক” এর ঝিনাইদহ কাস্টমার কেয়ারের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান সুমন জানিয়েছেন, ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দামে সিম বিক্রির অভিযোগ সত্য। তাদেরকে ৬০ টাকা দামে সিম বিক্রি করতে বলা হয়েছে। এটা হচ্ছে ডিলার রেট। আর গ্রাহকরা কিনবেন ৭০ টাকায়। ডিলারকে সতর্ক করা হলেও তারা কম দামে সিম বিক্রির নির্দেশনা মানছেন না। মাহফুজুর রহমান সুমন জানান, শৈলকুপা ও ঝিনাইদহের অনেক খুচরা সিম বিক্রেতা তার কাছে এমন অভিযোগ করেছেন। শহরের কলাবাগান পাড়ার হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন তিনি টেলিটকের একটি সিম কিনেছেন বেশি দামে। সাদিয়া নামে আরেক কলেজ ছাত্রীর অভিযোগ তিনি আরাপপুর এলঅকা থেকে ৭০ টাকার সিম ১২০ টাকায় কিনেছেন। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় টেলিটকের গ্রাহক আছে আনুমানিক দশ হাজারের মতো। ৬ উপজেলার শতাধীক পয়েন্টে টেলিটকের সিম বিক্রি করা হয়। ঝিনাইদহ শহরে ২০টি পয়েন্টে সিম বিক্রি করা হচ্ছে। শহরের কেসি কলেজের সামনে জেলা পরিষদের মার্কেটে দুইজন সিম বিক্রেতা জানান, ৭০ টাকার সিম তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নিচ্ছে ডিলাররা। অভিযোগ করেও কোন কাজ হয় না। এই জন্য তারা তো একটু বেশি দামে বিক্রি করবেনই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, সরকারী প্রতিষ্ঠান বলে টেলিটকের ডাটা প্যাকেজ, কল রেট এমনকি দোকানে তাদের কোন লিফটেল দেওয়া হয় না। ফলে গ্রাহকদের কোন তথ্য দিতে পারি না। বেশি দামে সিম বিক্রি নিয়ে ডিলার এনজিও এইডের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিমাসে তাদের ২০০ করে সিম বিক্রি করতে দেন। এটা অত্যান্ত নগন্য। এই ২০০ সিম বিক্রি করে তাদের মাত্র দুই হাজার টাকা লাভ হয়। অথচ তাদের ৬ জন কর্মীকে ৬০ হাজার টাকা প্রতি মাসে বেতন দিতে হয়। গত মাসেও আমরা ২০ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছি। তিনি বলেন, তাদের কোন কর্মী যদি বেশি দামে সিম বিক্রি করে থাকেন, তবে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্হা নেব। কারন ডিলার হিসেবে আমাদের এনজিওর সুনাম ক্ষুন্ন হোক আমরা তা চাই না।