খেলাধুলা

কেন সাকিবের আঙুলে ইনফেকশন? বিসিবি ফিজিওকে শোকজ…

স্পোর্টস ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাকিব আল হাসান হাতের আঙুলে মারাত্মক ইনফেকশন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। দ্রুত চলে যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জানান তার আঙুলের অপারেশনের জায়গাতে ইনফেকশন হয়েছে। দ্রুত অপারেশন না করলে অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।

এতটা খারাপ যে সাকিব এই নিয়ে বলেন, ‘আর কিছুদিন পর ধরা পড়লে আমার হাতই অকেজো হয়ে যেত। কিন্তু তার এই অবস্থার জন্য দায়ী কে! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান গোটা দায় দিয়েছেন দলের ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহনের ওপর। ‘বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বলেন, কারণ দর্শাতে বলা হবে দলের ফিজিওকে। আমরা অবশ্যই তার কাছে জানতে চাইব, সাকিবের কেন এমন হয়েছে। প্রধান নির্বাহীর (বিসিবি) সঙ্গে কথা বলে জবাবদিহি চাওয়া হবে। সাকিবের আরও খারাপ কিছু হতে পারত। তাকে (ফিজিও) দলে রাখাই হয়েছে খেলোয়াড়দের দেখে রাখার জন্য।’ তবে প্রশ্ন উঠেছে সাকিবের আঙুলের ইনজুরিতো ছিল এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার আগেই। চিকিৎসকরাও বলেছিলেন তার অপারেশন লাগবেই। আর খেলতে হলে তাও পারবেন ইনজেকশন নিয়ে।

তাহলে কেন সাকিবকে নিয়ে এ ঝুঁকি নেয়া হলো! আর তিনি নিজেই কেন ঝুঁকি নিলেন! এই দায় কি শুধু চন্দ্রমোহনের, নাকি বিসিবি ও সাকিবের নিজেরও?

অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই সাকিব মাঠে নেমেছিলেন হাতে ইনজেকশন নিয়ে। এরপর দেশে ফিরে এসে জানান তিনি এশিয়া কাপের আগেই আঙুলে অপারেশন করাতে চান। বিসিবি’র চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরীও বলেছিলেন, ‘সাকিবের অপারেশন লাগবেই। কারণ এই অবস্থায় তিনি বল করতে পারলেও ব্যাট করতে কষ্ট হবে। কিন্তু সাকিব চাইলে অপারেশন হবে। আর তিনি চাইলে ইনজেকশন নিয়েও খেলতে পারেন। তবে এমন অবস্থাতে তার পাফরমেন্স করার ক্ষমতা ২০-৩০ ভাগ।’ কিন্তু তখনই সাকিবকে এশিয়া কাপে খেলে অপারেশন করাতে অনুরোধ করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেই সময় হজে গিয়ে মদিনাতে দু’জন আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।

সাকিবকে রাখা হয় এশিয়া কাপের দলে। হজ থেকে দেশে ফিরে সাকিব একটি দৈনিককে জানান তিনি মাত্র ২০-৩০ ভাগ পারফরমেন্স করতে ফিট আছেন। তবে পরে তিনি তার এই বক্তব্য অস্বীকার করে জানান সাধারণ আলাপচারিতায় এমন বলেছিলেন। এরপর তিনি এশিয়া কাপে খেলতে চলে যান। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন তখন জানিয়েছিলেন তার হাতে এতটাই ব্যথা যে তিনি কোনোভাবেই ব্যাট ধরতে পারছেন না। রাতেই সাকিব দেশে ফিরে আসেন।

এরপর অস্ত্রোপচার শেষে ফেসবুকে সাকিব আল হাসান জানান, আরেকটু হলে হাতটা হারাতে বসেছিলেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। আঙুলের অস্ত্রোপচার করাতে যেদিন সাকিবের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা, সেদিন দেখেন চোট পাওয়া হাতে প্রচণ্ড ব্যথা। ব্যথানাশক খেয়েও লাভ হচ্ছে না! গায়েও জ্বর জ্বর ভাব। দ্রুত হাসপাতালে গেলে জানতে পারেন, চোট পাওয়া বাঁ হাতের কড়ে আঙুল থেকে সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়ে পুঁজ জমেছে। তা সময়মতো না বের করলে কঠিন বিপদেই পড়তেন বলেই জানান সাকিব। মূলত বিসিবি ফিজিওকে দায় দিচ্ছে তার কারণ নিয়মিত ক্রিকেটারদের দেখভাল ও খোঁজ নেয়া তারই কাজ। অভিজ্ঞ এই ফিজিও কেন বুঝতে পারলেন না যে সাকিবের আঙুলের এই অবস্থা?

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে বিসিবি ও সাকিবকে নিয়েও। সাকিবের আঙুলের এই অবস্থা ভালো করেই জানতো বিসিবি। তাহলে কেন অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হলো না তার আঙুল নিয়ে। কেনই বা ইনজুরি আক্রান্ত এক জন ক্রিকেটারকে খেলানো হলো এশিয়া কাপে যার কিনা অপারেশন না করালে কোনো অবস্থাতেই আঙুল ভালো হতো না। দায় এড়াতে পারবেন না সাকিবও কারণ তিনি নিজেই জানতেন ও বুঝতেন তিনি কতটা পারফরমেন্স করতে পারবেন। তাহলে কেন তিনি অনুরোধের ঢেকি গিলে খেলতে গেলেন এশিয়া কাপে।

প্রশ্ন হচ্ছে এত ঝুঁকি নেয়ার পর তার কাছে দল কি পেয়েছে? চার ম্যাচে ব্যাট হাতে রান করেছেন মাত্র ২১ আর বল হাতে নিয়েছেন ৭ উইকেট। খেলতে পারেননি ফাইনাল। সূত্র : মানবজমিন

জুমবাংলানিউজ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *