কাল সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ, এক সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা….

গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে প্রত্যাখ্যান করে কাল সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ দুপুরে নয়া পল্টন কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সব মহানগরী, জেলা ও থানা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে বিএনপি। এছাড়া ১৩ অক্টোবর সারাদেশে ছাত্রদল, ১৪ অক্টোবর যুবদল এবং ১৫ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দল আলাদাভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

১৬ তারিখ বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল, ১৭ অক্টোবর মহিলা দল এবং ১৮ অক্টোবর শ্রমিক দল সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে।

এর আগে নয়া পল্টন কার্যালয়ে আলাদা ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এই রায় দেয়া হয়েছে। আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করছি।’

বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের করা এই মামলায় তারেক রহমানের নাম ছিলো না। ৬২ জন স্বাক্ষীর কেউ তারেক রহমানসহ অন্য অনেকের নামও বলেননি। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে তার মাধ্যমে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মুফতি হান্নানকে নির্যাতন করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি আদায় করা হয়। পরে মুফতি হান্নান লিখিতভাবে তার আগের জবানবন্দি প্রত্যাহার করে আদালতে বলেন, তারেক রহমানকে তিনি চিনেন না। তাকে ভয় দেখিয়ে জোর করে রিমান্ডে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি নেয়া হয় বলেও তিনি আদালতকে জানান।’

বিএনপি নেতা বলেন, যে দেশে প্রধান বিচারপতি ন্যায়বিচার পান সেদেশে অন্য কেউ ন্যায়বিচার পাবেন না তা আবারও এই রায়ে প্রমাণিত হল।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি কোনো কর্মসূচি দেবে কিনা সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি কর্মসূচিও আসবে এবং একই সাথে আইনি পদক্ষেপও চলবে। কী কর্মসূচি দেয়া হবে তা পরে জানতে পারবেন।’

দুপুর ১২টার দিকে ঘোষিত রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর বাকি ১১ আসামিকে নানা মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।