Take a fresh look at your lifestyle.

নড়াইলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয় দেহ ব্যবসা জরিত দপ্তরী.. …

নড়াইল প্রতিনিধিঃ

619

নড়াইল সদর উপজেলার নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাতে স্কুল ভবনের কামরায় দেহ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৫ জুন) স্কুল প্রাঙ্গণে ঐ নৈশ প্রহরীসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভ মিছিলের পর তাৎক্ষনিকভাবে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের রাতের বেলা স্কুলে এনে এলাকার লোকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা চালাতো নৈশ প্রহরী লতিফ সিকদার। সে একেকদিন একেকজন নারী নিয়ে আসে আর প্রভাবশালীরা এসে তাকে টাকা দিয়ে যায়। এখানে যারা আসে তারা প্রভাবশালী বলে ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনি।’

বুধবার রাতে এলাকাবাসী নৈশ প্রহরী লতিফসহ কয়েকজনকে হাতে-নাতে ধরে স্কুলের গেট আটকে দেয়। পরে প্রভাবশালী কিছু লোকের উপস্থিতিতে ছাড়া পায় ঐ নৈশ প্রহরী। এ ঘটনার পরদিনই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুল বন্ধকালীন সময়ে ১৩ জুন ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি সভা দেখিয়ে ঐ দপ্তরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। নাকশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার নাগ বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে ভোরে স্কুলে ছুটে আসি।

এ সময় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদার, মফিজুর রহমান সিকদার, সুলতান আহমেদ, শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। নৈশ প্রহরী লতিফ তাদের কাছে ছিলো। আমি সে সময়ই তাকে পুলিশে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’ পুলিশের হাতে তুলে দিতে না পেরে পরে সভাপতির জিম্মায় দিয়ে চলে আসি। শনিবারে স্কুল খুললে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ছিলো। এ সময় এলাকার কিছু লোকজনের বাকবিতণ্ডার কারণে প্রধান শিক্ষক উচ্চ রক্ত চাপের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলের দপ্তরি ও নৈশ প্রহরী লতিফ সিকদার মোবাইল ফোনে নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি স্কুলে ঘুমিয়ে ছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

প্রতিবেশী বিপ্লব মোল্যা জানান, ‘স্কুল হলো মানুষ গড়ার স্থান, এই স্থানে এই ধরনের অপকর্ম দিনের পর দিন চললেও ম্যানেজিং কমিটি বা প্রধান শিক্ষক কেউ দেখছেন না। এভাবে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।’ পরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ সিকদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার এসআই রজত জানান, ‘এ স্কুলের দপ্তরী ও নৈশ প্রহরীর অপকর্মের অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় কয়েকজন জড়িত আছে। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’সূত্র-ইত্তেফাক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ