স্বদেশ বাংলা
Online news portal.

এবার সুনামগঞ্জে একই পরিবারের ৪ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

137

এবার সুনামগঞ্জে একই পরিবারের ৪ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ।
ইসলাম শান্তির ধর্ম, আর এ ধর্মে রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা। এমন আত্ম-উপলব্ধি থেকে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ১নং বেহেলী ইউনিয়নের রহিমপুর গুচ্ছগ্রামে একই পরিবারের ৪ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী)

সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল উদ্দিনের আদালতে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে একই পরিবারের ৪ জন সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
এ খবরটি জানাজানি হলে ছাতক উপজেলা দিনব্যাপী ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। ছাতক উপ’জেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈয়দগাও

ইউনিয়নের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম জামে মসজিদ খতিব মাওলানা আবু ফজল দ্বোহা শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে তাদেরকে কলিমা পড়িয়ে হিন্দু ধর্মত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করান।

সুত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ১নং বেহেলী ইউনিয়নের রহিমপুর গুচ্ছগ্রামের অনিক দাস (৩০) ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বৃহস্পতিবার স্বপরিবারে আদালতে গিয়ে নাম পরিবর্তনে করে আব্দুল্লাহ এবং স্ত্রী শ্রীমতি বালা দাস (২৫) স্থলে মোছাম্মৎ রহিমা জান্নাত হামিদা, বড় মেয়ে নন্দিনী

(৬) স্থলে আয়েশা জান্নাত আক্তার, ছোট ছেলে মনি অনুরাগ স্থলে মোঃ রায়হান আহমদ রাহি নাম রেখে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।আব্দুল্লাহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ শেষে জানান, শৈশব থেকেই আমি ইসলাম ধর্মের প্রতি দুর্বল ছিলাম। বিয়ের পর সংসারী জীবনের একপর্যায়ে স্ত্রীর কাছে বি’ষয়টি প্রকাশ করলে সে আমাকে অনুপ্রাণিত করে। দীর্ঘ সময়ে মুসলমানদের রীতিনীতি

পর্যালোচনা করে আল্লাহ এবং প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) প্রতি বিশ্বাস রেখে স্বপরিবারে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। এরপর ফয়েজ আহমদ ও গাড়ি চালক হাসান আহমদ নামে দুই মুসলিম ভাই থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে স্ব-পরিবারে তাদের খাবার খাইয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক আইনজীবি আলহাজ্ব আবুল কালাম কেনু মিয়া জানান, আব্দুল্লাহ কয়েক দিন আগে আমাকে এই ধর্ম গ্র’হণের বিষয়ে জানালে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। এখন তিনি আমার মুসলিম ভাই তাকে ও তার ছেলেমেয়ের লেখাপড়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।

শুক্রবার তাদের দুজনকে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক এক লক্ষ এক টাকা দেন-মোহর ধার্য্য করে কাজী মাওলানা আব্দুস সামাদ রেজিষ্টারি কাবিননামা করে দেয়। আবদুল বাছিত শেখ উকিল দিয়ে মুজিবুর রহমান ও আব্দুল করিমকে বরের পক্ষে স্বাক্ষী ও কনের আবুল লেইছ মোহাম্মদ কাহার ও আব্দুস সামাদকে স্বাক্ষী রেখেই ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক তাদেরকে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার

আব্দুল্লাহ, হাফিজ আেেনায়ার, পীর আব্দুল হান্নান, ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি, সদরুল আমিন সোহান, ফয়েজ আহমদ কাজী এমদাদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল মতিন, হাফিজ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, ফয়জুল ইসলামসহ শতাধিক গন্যমা’ন্যব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিয়ের পর খেজুর খেয়ে তাদের জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়।
আরো পড়ুন=>> মৌলভীবাজারে পাঁচ ডাকাতি মামলার আসামী আছকির গ্রেফতার

এই বিভাগের আরও সংবাদ
Translate Language »