1. [email protected] : Tanvir :
  2. [email protected] : Bijoyer Bangla : Bijoyer Bangla
ফুটপাতের দোকানে বসে মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ভাই! - Sadeshbangla.com
সর্বশেষঃ
বাবর ও রিজওয়ানকে চরম ‘স্বার্থপর’ বললেন শাহিন আফ্রিদি! ফাইনালের সাথে সাথে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করলেন বাংলাদেশ অবাক ক্রিকেট বিশ্ব কোহলিকে পিছনে ফেলে T20 তে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাবর আজম এবার এশিয়া কাপে তিন বার মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান! স্পাইডারম্যানের মতো উড়ে গিয়ে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন বিজয়, তুমুল ভাইরাল! রাস্তায় অনেক মানুষ ছিল আমি চিৎকার করেও কারু সাহায্য পাইনি! তাজা খবর:H.S.C পরিক্ষার ফরম পূরণের শেষ তারিখ প্রকাশ! পিএসজি তে মেসির সাথে খেলতে চায় : নেইমার! আমি একা ধরতে পারলে পুলিশ কেন ধরতে পারবে না’: জবি ছাত্রী! প্রমান করে দিলেন পড়াশুনার নাই কোনো বয়স, ৯৮ বছর বয়সে গ্র্যাজুয়েট হয়ে রেকর্ড করলেন!

ফুটপাতের দোকানে বসে মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ভাই!

  • প্রকাশিত : শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৫২ জন পড়েছেন

ফুটপাতে থাকা বাবার পুরোনো মিষ্টির দোকানে বসে মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ভাই। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মা’ধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তারা বাবার আদি পেশাকে ভুলে যাননি। বরং আগের মতোই স’ম্মানের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়ে সেই দোকানে বসে নিসংকোচে মিষ্টি বিক্রি করছেন। কর্ম

ও পেশার প্রতি তাদের এই পরম শ্রদ্ধার বিষয়টি এখন আলোচিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সবার প্রশংসায় ভাসছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ভাই। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সমৃদ্ধ পৌরসভার নাম আড়ানী। সেখানে ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়ে বাবার ফুটপাতে মিষ্টির দোকানে বসে এভাবেই মিষ্টি বিক্রি করছেন বিসিএস ক্যাডার দুই ভাই। উপজেলার আড়ানী

পৌর বাজারের চালের হাটে ফুটপাতে তাদের বাবার মিষ্টির দোকান। তারা দুই ভাই হলেন ডা. মৃনাল কুমার পাল মিঠন ও প্রভাষক অমিত কুমার পাল। এর মধ্যে মৃনাল কুমার পাল মিঠন এমবিবিএস শেষে করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। আর রাজশাহীর বাঘার আড়ানী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন অমিত কুমার পাল।

তারপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বগুড়ার সান্তাহার সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেছেন। এই কলেজ থেকে তিনি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে

দেশ সেরা হিসেবেও নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারের মৃত হিতেন কুমার পালের নাতী ও বাবু উত্তম কুমার পাল ও বাসনা রানী পালের সন্তান। তাদের বাবা উত্তম কুমার পাল বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজারের ফুটপাতের ক্ষুদ্র মিষ্টি বিক্রেতা। তাদের রত্নাগর্ভা মা একজন গৃহিণী। বোন মিতা রানী পাল সম্প্রতি সরকারি একটি অফিসের অফিসার পদে যোগদান করেছেন।
.
তবে আজ রাতে আবারও কর্মস্থলে ফিরবেন ডা. মৃনাল কুমার পাল মিঠন। কারণ ঈদের ছুটিতেও বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হবে তাকে। তবে তার ভাই অমিত কুমার পাল থাকবেন আরও বেশ কয়েক দিন। শনিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কথা হয় ডা. মৃনাল কুমার পাল মিঠনে সঙ্গে। তিনি বলেন, ফুটপাতে বসে মিষ্টি বিক্রি করার মধ্যে লজ্জা কিসের? এটি তাদের কাছে গর্বের এবং শ্রদ্ধার। এ ফুটপাতের

দোকান তিন পুরুষের ব্যবসা। এ মিষ্টি দোকান থেকেই তার বাবা তাদের বিসিএস ক্যাডার করেছেন, সমাজে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। এই ফুটপাতের মিষ্টির দোকান তাদের জন্য ‘লক্ষ্মী’। ডা. মৃনাল কুমার পাল মিঠন আরও বলেন, তারা এই ফুটপাতের মিষ্টির দোকান নিয়ে সবার কাছে গর্ব করেন। তাই ছুটিতে বাড়ি গেলেই বয়স্ক বাবাকে একটু আরাম দিতে তারা

দুই ভাই মিলে দোকানদারী শুরু করে দেন। গ্রামের মানুষও তাদের খুব ভালোবাসেন। আর তাদের দোকানের মিষ্টি সবার কাছে জনপ্রিয়। মিষ্টি ছাড়াও বাতাসা, খাগড়াই ও মিছরি বিক্রি হয় তাদের দোকানে। তাই আজ প্রতিষ্ঠা পেলেও পৈত্রিক এই ব্যবসা তারা ধরে রাখবেন বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) তাদের ওই দোকানে

বসে মিষ্টি বিক্রি করতে দেখেন স্থানীয় ব্যাংকার তৌফিকুল বারী রবি। তিনি বর্তমানে নাটোর তমালতলা রূপালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এবং ম্যানেজার। তিনি তাদের দুই ভাইয়ের ছবি মোবাইলে তুলে ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপরই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় বলে জানান ডা. মৃনাল। আর অমিত কুমার পাল বলেন, তারা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করে দুই ভাই ও এক

বোনকে মানুষ করেছেন তাদের বাবা। ৩৫তম বিসিএস শিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কলেজে যোগ দিয়েছেন। সেখান থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে আবার দেশ সেরা হয়েছেন। তবে তারা কোনো কিছুকেই ছোট করে দেখেন না। সুযোগ পেলেই দুই ভাই বাবার ফুটপাতের দোকানে বসে দোকানদারি করেন। এতেই তাদের

সুখ মেলে। মেলে আনন্দ। তারা এমনই থাকতে চান। তাদের গর্বিত বাবা বাবু উত্তম কুমার পাল। তিনি বলেন, তার ছেলেরা আকাশের নক্ষত্রের মতো। দারিদ্র্যতার কারণে তিনি কোনো দিনই তার ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট পড়াতে পারেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এত শূন্যতার মাঝেও তারা আজ নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। অথচ

তাদের কখনও ভালো পোশাক, খাবার, ঘুমোনার জন্য একটু ভালো জায়গা দিতে পারেননি। তিনি ও তার স্ত্রী বাসনা রানীর কেবল তাদের আশির্বাদ ছাড়া তেমন কিছুই দিতে পারেননি। আজ ছেলে-মেয়েদের এমন কীর্তিময় জীবন দেখে তারা গর্বিত। তিনি তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © ২০১৭-২০২২
Site Customized By NewsTech.Com