মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষঃ
কাবা শরীফের ইমাম হয়েছি শুধু মায়ের দোয়ায়:শাইখ আদিল আল কালবানি মাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে মৃত্যুদন্ড দিলেন আদালত ক্যাসিনো অভিযানে:আ’লীগ নেতা এনামুল রুপন এর বাড়িতে ৫ সিন্দুকভর্তি টাকা ফেনীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে নির্বাহী অফিসারের নাসরীন সুলতানা র ক্ষোভ এবার বাংলাদেশের সব মসজিদে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা চেয়ে রিট আড়াই বছরে মায়ের মুখে শুনে শুনে পবিত্র কুরআন মুখস্ত বগুড়া শিবগঞ্জ থেকে ৪৮৭ বোতল ফে’ন্সিডিলসহ ২ মা’দক ব্যবসায়ী আটক পুলিশের কব্জায় অটোরিকশা, মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসায় শেষ সম্বলও বিক্রি ব্রেকিং:পদত্যাগ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির গোপালগঞ্জে মসজিদে আগুন দিলেন দুর্বৃত্তরা

ফেনীতে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক পরকীয়া প্রেমীকাকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন

রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৫ জন নিউজটি পড়েছেন
ফেনীতে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক পরকীয়া প্রেমীকাকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন

ফেনীতে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক পরকীয়া প্রেমীকাকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন।ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন ১০ নং ঘোপাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দল মনোনীত ওই ইউনিয়নের দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক, তার অবৈধ সম্পর্কের প’রকীয়া প্রে’মীকা রেহানা আক্তারকে বিয়ে করার প্রলোভনে পেলে পরিকল্পিত ভাবে কৌশলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁ’সাতে গিয়ে,নিজেই ফেঁ’সে গেলেন।গত ৭ ফেব্রুয়ারি চট্রগ্রাম

মহানগরীর হালিশহর থানাধীন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
বিশ্বস্ত একটি সূত্রের দেয়া তথ্যের ভিত্তেতে ঘটনার বিবরণে জানাযায়,ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন ১০ নং ঘোপাল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক, আনুমানিক গত দুই বছর পূর্বে তার ইউনিয়নস্ত নাঙ্গলমোড়া গ্রামের,মোঃ মোস্তফার স্বামী পরিত্যাক্তা সুন্দরি মেয়ে, রেহানা আক্তারের সাথে অ’বৈধ

পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।চেয়ারম্যান মানিক ও রেহানার মধ্যে দীর্ঘদিন চলতে থাকা অ’বৈধ পর’কীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি ওই এলাকার অনেকে জানলে ও প্রভাবশালী ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান মানিকের ভয়ে মুখ খুলতোনা কেউ।চেয়ারম্যান মানিক দুই বছর পূর্বে বিয়ে করার শর্তে রেহানার সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করেন।সম্পর্ক পরবর্তী মানিক প্রায় প্রতিদিন রেহানাদের বাড়ীতে যাওয়া আসা শুরু করেন।ঘনঘন যাওয়া আসা কালীন বিভিন্ন প্র’লোভন দেখিয়ে,অল্প দিনের মধ্যেই চেয়ারম্যান মানিক তার

সাথে রেহানাকে অবৈধ দৈ’হিক সম্পর্কে জড়াতে অনেকটা বাদ্য করে পেলেন।এইভাবে দীর্ঘদিন যাবত তাদের উভয়ের মধ্যে চলছিল অবৈধ পরকীয়ার সম্পর্ক।চেয়ারম্যান ও রেহানার মধ্যে চলতে থাকা অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি রেহানাদের এলাকার একাধীক ব্যাক্তি জানার পরও চেয়ারম্যান মানিকের ভয়ে মুখ না খুল্লেও রেহানাদের বাড়ীর আশপাশের মহিলারা কিন্তু চুপ থাকেনি।তারা রেহানাকে দেখলেই বিভিন্ন কুটোক্তি মূলক আচরন

করতো।এলাকার মহিলারা রেহানা ও চেয়ারম্যান মানিকের মধ্যে চলতে থাকা অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে গেছে দেখে,একপর্যায় গত দুই তিন মাস যাবত রেহানা তার ও চেয়ারম্যানের মধ্যে চলতে থাকা অবৈধ সম্পর্কটির সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষে,চেয়ারম্যানের দেয়া পূর্ব শর্ত অনুযায়ী রেহানা তাকে বিয়ে করার জন্য চেয়ারম্যান মানিককে চাপ দিতে থাকেন।দ্রুত সময়ের মধ্যে রেহানাকে বিয়ে না করলে,সে তাদের

মধ্যে দীর্ঘ দুই বছর যাবত চলতে থাকা অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে,সাংবাদিক সম্মেলনসহ চেয়ারম্যান মানিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করবেন বলে,চেয়ারম্যান মানিককে ছাপ জানিয়ে দেন।রেহানার মুখ থেকে এমন একটি কথা শোনার পর থেকে চেয়ারম্যান মানিক রেহানাকে ফাঁদে পেলে কিভাবে ফাঁসানো যায়,সে বিষয় নিয়ে নানান দরণের পরিকল্পনা করতে

থাকেন।এরিমধ্যে চেয়ারম্যান মানিক রেহানাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিত একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৌশল অলম্বন করেন।চেয়ারম্যান মানিক তার পরিকল্পিত কৌশলটি বাস্তবায়নের লক্ষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রেহানাকে করে তাকে বিয়ে করবে বলে জানান।চেয়ারম্যান মানিক রেহানাকে ফোনে বলেন,আমি ঢাকা থেকে রওনা করেছি তুমি চট্রগ্রাম চলে আস,চট্রগ্রামেই আমাদের বিয়ে হবে।আমি তোমার আগে চট্রগ্রাম পৌঁছে যাব যদিও কোন কারণে আমার পৌঁছাতে সামান্ন দেরী হয়,তোমাকে চট্রগ্রাম শহরের মধ্যে একটি জায়গার ঠিকানা দিচ্ছি তুমি

ঠিকানাটা লিখে নাও তুমি আমার আগে পৌঁছে গেলে বাস থেকে নেমে আমাকে ফোন দিও।যদি তোমার আগে আমি না পৌঁছাই তাহলে তুমি আমার দেওয়া ঠিকানা মোতাবেক ওই জায়গায় চলে যাবে,সেখানে তোমাকে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিসিভ করবে।আমি ঢাকা থেকেই ফোনে চট্রগ্রামের একটি আবাসিক হোটেলে সিট বুকিং করে রেখেছি, হোটেলে সিট বুকিং করার কারণ যদি কোন কারণে আমি তোমার আগে

চট্রগ্রাম পোঁছাতে না পারি,তুমি একা কোথায় অপেক্ষা করবে সেই কথা চিন্তা করেই বুদ্ধি করে এই কাজটি করেছি।আশা করি তোমাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না কারণ সময় অনুযায়ী আমি তোমার পূর্বেই পোঁছে যাওয়ার কথা।তার পরও যদি আমার পোঁছাতে ২০ থেকে আধাঘন্টা দেরি হয়ে যায়,তুমি কথা মত আমার বন্ধুর সাথে হোটেলে গিয়ে সামান্য সময়ের জন্য আমার পোঁছার সময় টুকু অপেক্ষ করবা,আমি ওখানে পোঁছা মাত্রই তোমাকে নিয়ে কোর্টে গিয়ে আমাদের

বিয়ের কাজটা করে পেলবো।৭ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান মানিকের দেওয়া সময় অনুযায়ী রেহানা ঠিকই চট্রগ্রাম পোঁছে বাস থেকে নেমে মানিককে ফোন দিলে,সে এখনো পোঁছে নাই বলে তার দেওয়া দিক নির্দেশনা মোতাবেক রেহানাকে আধাঘন্টা অপেক্ষা করতে বলেন।রেহানা চেয়ারম্যান মানিকের সবগুলি কথা সরল মনে বিশ্বাস করে তার কথামত বন্ধুর সাথে হোটেলে গিয়ে উঠেন।মানিক রেহানাকে যে বন্ধুর সাথে হোটেলে গিয়ে বন্ধুকে বিদায় দিয়ে সামান্য সময় তার জন্য অপেক্ষা করতে

বলেছিল,পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চেয়ারম্যান মানিকের সেই বন্ধু মানিকের কথামত রেহানাকে রিসিভ করার পর থেকে হোটেলে পৌঁছিয়ে দেওয়া পর্যন্ত কোন একটা সময়ের মধ্যে সুকৌশলে রেহানার একটি বেগের মধ্যে ৫০ পিস ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে,রেহানাকে হোটেল কক্ষে রেখে সরে যায়।রেহানা হোটেল কক্ষে অপেক্ষাকালীন চেয়ারম্যান মানিকের সাথে ফোনে কথা বলারত অবস্থায়,হঠাৎ তার কক্ষে পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়ে রেহানার বেগে তল্লাসী চালিয়ে,৫০ পিস ইয়াবা পায়

পুলিশ।পরে ইয়াবাসহ পুলিশ রেহানাকে আটক করে শহরের হালিশহর থানায় নিয়ে যায়।রেহানাকে থানায় নেওয়ার পর হালিশহর থানার ওসি ইয়াবা বহনের বিষয় রেহানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাকালীন,রেহানার মুখে ঘটনার বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা শুনে ও রেহানার দেয়া বর্ণনার সত্যতা যাচাই করণে অনুসন্ধান চালিয়ে,বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত তথ্যের অনেকাংশে মিল পাওয়ার পর,হালিশহর থানার ওসি বুঝতে পারেন,রেহানার বেগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়া,রেহানাকে হোটেল কক্ষে পৌঁছে

দিয়ে,তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়া ও পরে হোটেল কক্ষে এক মহিলা ইয়াবা নিয়ে অবস্থান করছে বলে, পুলিশকে গোপন সংবাদ দেওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি ছিল,চেয়ারম্যান মানিকের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রেহানাকে ফাঁসানোর জন্য তার অর্থের কাছে বিক্রি হওয়া বন্ধু পরিচয় নামধারী,চেয়ারম্যান মানিকের অনুগত ছদ্মবেশী ওই ব্যাক্তিটির সাজানো একটি নাটক।
এই ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে চট্রগ্রামের হালিশহর থানায় মাদক আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।হালিশহর থানার

মামলা নং-৯/০৭-০২-২০২০ ইং।মামলাটির ১ নং আসামী রেহানা আক্তার,২ নং আসামী ছাগলনাইয়া উপজেলার ১০ নং ঘোপাল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক ও ৩ নং আসামী চেয়ারম্যান মানিকের অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে নাটক সাজানো সেই অজ্ঞাত ব্যাক্তিটি।পরকীয়া প্রেমীকাকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে,চেয়ারম্যান মানিককে নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে,ছাগলনাইয়া উপজেলাব্যাপী রাজনৈতিক মহলে।
আরো পড়ুন=>> ফেনীতে পুকুর থেকে ধরা মাছের ভাগাভাগি নিয়ে সং’ঘর্ষে নি’হত-১

এই সংবাদটি শেয়ার করার অনুরোধ রইল

এই বিভাগের আরো সংবাদ পড়ুন এখানে
© All rights reserved © 2020 Sadeshbd
The website Developed By Sadeshbangla.Com
Translate Language »