শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ
ফেনীতে ভূ’য়া সমাজ সেবা কর্মকর্তা ভূ’য়া ডিবি পুলিশ চক্রের চার সদস্য আটক মৌলভীবাজারে শিক্ষা সেবিকা সম্মেলন অনুষ্ঠিত ফেনীতে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আলমগীর হোসেনের অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে মদরীছ শাহ (রঃ) এর ওরসে চলছে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন নতুন ভোটারদের NID card প্রদান শুরু ২ মার্চ মুজিববর্ষে মোদিকে আমন্ত্রণ না জানানো অকৃতজ্ঞতার কাজ:ওবায়দুল কাদের মৌলভীবাজারে অনলাইন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় বগুড়ার খয়রাপুকুরে রেজাউল খুনের ঘটনায় ১৭ জনকে আসামী করে মামালা দায়ের ফেনীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে নির্বাহী অফিসারের নাসরীন সুলতানা র ক্ষোভ

যেই হোটেলে খাইতে টাকা লাগেনা বিনামূল্যে খেতে মানুষের ভীড়

রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

‘হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউজ’। ইতোমধ্যেই হোটেলটি নওগাঁবাসীর কাছে গরীবের হোটেল নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর হলেই নানা জায়গা থেকে এই হোটেলে এসে বসে পড়েন ছিন্নমূল মানুষ।একবেলা ভালো পরিবেশে ভালো খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন তারা। দোয়া করেন দু’হাত তুলে হোটেল মালিকের জন্য। হোটেল মালিক

বলছেন, ‘কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে না। নিজের অতীত কষ্টের কথা ভেবে আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এমন উদ্যোগ।যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিনই এমন মহৎ কাজ করে যেতে চাই আমি।’ হোটেল মালিক আলহাজ আলী আজগর হোসেনের এমন

উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে সব মহলে। প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে শতাধিক দরিদ্র, অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ চেয়ার টেবিলে বসে অতিথিদের মতো একবেলা তৃপ্তির সহকারে বিনামূল্যে খান এই হোটেলে।
খাবার মেন্যুতে থাকে ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ও সবজি। দেখে মনে হবে, কোনো আনন্দঘন অনুষ্ঠান। খাবারের জন্য নেই

কোনো হুড়োহুড়ি বা কাড়াকাড়ি। যে যখন আসছেন বসে পড়ছেন খাবারের সারিতে। এভাবেই প্রতি বৃহস্পতিবার চলে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। যাদের ভাগ্যে তিনবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না, তারা এমন খাবার পেয়ে বেজায় খুশি।এখানে বিনামূল্যে এমন ভালো খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন ছিন্নমূল মানুষেরা। খাবার খেতে

আসা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, ভিক্ষাবৃত্তি করে চলে জীবন। আমাদের ভাগ্যে জোটে না ঠিকমতো খাবার। মাছ, মাংসতো বছরে একবারও কেনার সমর্থ নেই। আগে বছরে একবার কুরবানির ঈদে মাংস খাইতাম।এখন নিয়মিত এ হোটেলে খেতে আসি। বৃহস্পতিবার অন্য কোনো এলাকায় না গিয়ে শহরের বিভিন্ন

জায়গায় ভিক্ষা করে দুপুরে এসে কোনো দিন গোস্ত ও কোনো দিন মাছ দিয়ে পেট ভরে ভাত খাই।’ আব্বাস আলী বলেন, ‘জীবনের অনেক সময় পার করেছি। শেষ জীবনে এসে একা ও অসহায় হয়ে পড়েছি। এখন ঠিকমতো চলা-ফেরাও করতে পারি

না। আর ভালো-মন্দ খাবার আশা করাইতো দোষের। সপ্তাহে একদিন এখানে আসি, বাবা একটু ভালো খাবারের আশায়। হাজী সাহেব আমাদের খাওয়ান।এর জন্য কোনো টাকা নেয় না। আল্লাহ্ যেন ওনারে বেহেস্ত নছিব করেন।’ হোটেল মালিক আলহাজ আলী আজগর হোসেন আরও বলেন,

‘আমি মানুষের ধিক্কার, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা খেয়ে বেড়ে উঠেছি। আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি। অভাবের সংসারে পরিবারেও ঠাঁই হয়নি আমার। ‘১৯৯৭ সালে নিজ জেলা নাটোরের সিংড়া থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নওগাঁতে এসে বসবাস শুরু করি।

প্রথমে ২৫ টাকা দিন মজুরিতে কাজ শুরু করি হোটেলে। শারীরিক সমস্যা থাকায় সে কাজও টিকেনি বেশি দিন।অর্থের অভাবে নিজের রক্ত বিক্রি করে নিজের সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়েছে। পরে আমি যে বাসাতে ভাড়া থাকতাম, তার সুপারিশে

আবারও হোটেলে থালা-বাসন ধোয়া-মোছার কাজ পাই। সে হোটেল মালিকও একসময় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং হোটেল ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হোটেল মালিকের সকল ঋণ মাথায় নিয়ে তাকে সাথে নিয়ে আমি নিজেই শুরু করি হোটেলের ব্যবসা। ২ কেজি, ৫ কেজি গরুর মাংস রান্না করে বিক্রি থেকে শুরু করে আমি এই পর্যায়ে। এখনে আমার হোটেলে

৩৫ জন কর্মচারী কাজ করে। এর মাঝে হজ্ব করেছি। শহরের বাসা-বাড়ি করেছি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে পড়াশুনা করছে’, বলেন তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করার অনুরোধ রইল

এই বিভাগের আরো সংবাদ পড়ুন এখানে
© All rights reserved © 2020 Sadeshbd
The website Developed By Sadeshbangla.Com
Translate Language »