Take a fresh look at your lifestyle.

জয় শ্রী’রাম না বলায় পি’টিয়ে হ’ত্যা, পুলিশ রিপোর্টে হার্ট-অ্যা’টাক

17

জুনে একটি ভিডিও ভা’ইরাল হয়। এতে দেখা যায়, এক মুসলিম যুবককে বেধড়ক পে’টানো হচ্ছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয়, ‘জয় শ্রী’রাম’ না বলায় ওই যুবককে টানা ১৮ ঘন্টা ধরে নি’র্যাতন করা হয়। মা’রধরের একপর্যায়ে তাকে জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন পরে ওই যুবকের মৃ’ত্যু হয়।

মৃ’ত ওই মুসলিম যুবকের নাম তাবরেজ আনসারি। আর অকথ্য এই নি’র্যাতনের ঘটনা ঘটছে ভা’রতের ঝাড়খণ্ডে। ঘটনার অনেক পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে চুরির অভিযোগে তাবরেজকে গ্রে’ফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত থেকে পরে জেলহাজতে। পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তবরেজকে। সেখানেই তিনি মা’রা যান। মানবাধিকার কর্মীদের অভি’যোগ, হাজতে মৃ’ত্যুর পরেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে।

আজ মঙ্গলবার ভা’রতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই গণ’পিটুনির ঘটনায় অভিযুক্তদের বি’রুদ্ধে হ’ত্যার অভি’যোগ খারিজ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃ’ত তাবরেজ আনসারির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে গণ’পিটু’নিতে নয়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন।এই মামলার চার্জশিট নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন পুলিশ জানায়, তারা ২৪ বছর বয়সী তাবরেজ আনসারির ওপর হামলার জন্য অভিযুক্ত ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ’ত্যার অ’ভিযোগ দায়ের করেছে। শনিবার আরও এক অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলে দ্বাদশ অভিযুক্ত হিসেবে তাকেও গ্রে’ফতার করা হয়। ২২ জুন একটি হাসপাতালে মা’রা যান তাবরেজ আনসারি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের সারাইকেলা-খারওয়ানে আরও দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করছিলেন এই সন্দেহে তাবরেজ আনসারিকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মা’রধর করে উত্তেজিত জনতা। মারধরের পাশাপাশি ওই যুবককে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতেও বাধ্য করা হয় বলে অ’ভিযোগ। গণ’পিটুনিতে মারাত্মকভাবে আ’হত হওয়ার চারদিন পরে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঝাড়খণ্ডের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কার্তিক এস এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্টে হত্যার পক্ষে কোনো সমর্থনযোগ্য প্রমাণ মেলেনি যার ভিত্তিতে আমরা হ’ত্যাকা’ণ্ডের অভি’যোগে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করাতে পারি। তিনি এ-ও জানান যে, দুটি পৃথক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একই তথ্যই পাওয়া গেছে, তা হলো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মা’রা গেছেন তাবরেজ আনসারি।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমবার যখন এই মেডিকেল রিপোর্ট পাই তখন আমরা উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দ্বিতীয়বার মতামত চেয়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়বারও বিশেষজ্ঞরা একই মতামত দিয়েছেন যে, তিনি গ্রে’ফতারের কারণে হওয়া মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা’রা গিয়েছিলেন।

তাবরেজ আনসারির মৃ’ত্যুর পর তদন্তে নেমে সারাইকেলা-খারওয়ানের জেলা প্রশাসক অঞ্জনেউলু দোডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল প্রাথমিকভাবে পুলিশ এবং তদন্তকারী চিকিৎসক উভয়পক্ষকই তার মৃ’ত্যুর জন্য দায়ী করেছিলেন।জুলাই মাসে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ দেরিতে পৌঁছানোয় চিকিৎসকরাও মাথার খুলির আঘাতের সঠিক পরিমাণ শনাক্ত করতে পারেননি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ