Take a fresh look at your lifestyle.

৯১ বছর ধরে অবিরাম কোরআন তেলাওয়াত চলছে কবরের পাশে

74

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুর ৯১ বছরেও চলছে কবরের পাশে বসে সমধুর কন্ঠে কোরআন

তেলওয়াত।আর সে কবরের পাশে বিগত ৯১ বছর ধরেই তেলাওয়াত করা হয় পবিত্র কোরআন।জানা গেছে, ঝড়, বৃষ্টি, দুর্যোগ বা যুদ্ধকালীন সময়েও বাদ দেয়া হয়নি তেলাওয়াত। অবিরাম চলছে তো চলছেই। একজন পড়ে উঠে গেল অন্যজন কোরআন নিয়ে বসছেন।টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর সেই কবরটি নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল ৬৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলে

নিজ বাড়ির মসজিদ চত্বরে সমাহিত করা হয় তাকে। সেই সময় থেকেই তার কবরের পাশে বসে এই তেলাওয়াত চলছে। সেই সমধুর সুর সেই কবরের চারিপাশে প্রতিনিয়তই ধ্বনিত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব

পালন করেছিলেন। ১৯১১ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে নবাব সলিমুল্লাহর পাশাপাশি নওয়াব আলী চৌধুরীও ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।সেদিন বাংলার এ দুই নবাব ল্যান্সলট

হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৃথক দুইটি মানপত্রে এ দাবি পেশ করেন। এর পর ১৯১৭ সালের ৭ মার্চ ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সভায় ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উপস্থাপন করেন নওয়াব আলী চৌধুরী।শুধু দাবিই নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠাকালে অর্থাভাব দেখা দিলে নিজ জমিদারির একাংশ বন্ধক রেখে এককালীন ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেন ধনবাড়ীর এই নবাব। সূত্র: উইকিপিডিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিনেট ভবনের নাম ‘সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন’ নামকরণ

করেন।শিক্ষানুরাগী, দানবীর নওয়াব আলীর কবরের পাশে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গে ধনবাড়ী মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মওলানা মুফতি ইদ্রিস হোসাইন জানান, প্রতিদিন চারজন হাফেজ কোরআন পাঠের দায়িত্বে থাকেন।তারা পালাক্রমে

তেলাওয়াত করেন। বর্তমানে যে চারজন কোরআন তেলাওয়াত করছেন তারা হলেন, হাফেজ মো. আব্দুস সামাদ, মো. কামরুজ্জামান, আবু হানিফ ও হেদায়েত হোসেন।হাফেজ মো. আব্দুস সামাদ বলেন, সকাল ছয়টা

থেকে সাড়ে আটটা, সাড়ে আটটা থেকে বেলা ১১টা, বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা, দুপুর দেড়টা থেকে বিকে চারটা এবং বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা। এভাবে আবার রাতের পালাও শুরু হয়। একেক শিফটে একেকজন কোরআন পাঠের দায়িত্ব থাকেন।তবে এ চারজনের কেউ অসুস্থ হলে

অথবা ছুটিতে থাকলে মসজিদের পাশেই হিফজখানা থেকে ছাত্রদের দিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করানো হয়। তেলাওয়াতকারিরা এখানে কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি হিফজখানায় শিক্ষকতা করেন। আর সেখান থেকেই তাদের সম্মানী দেওয়া হয়।নওয়াব আলী চৌধুরী মসজিদ।মসজিদের একজন মুসল্লি

জানান, আমার বয়স এখন ৫২। আমি আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখি এখানে কোরআন পাঠ চলছে। আমার বাবাও এটাই দেখেছেন বলে জানিয়েছেন আমাকে।নওয়াব আলী চৌধুরীর নাতনি জামাই আকবর উদ্দিন আহমেদ জানান, মৃত্যুর আগে

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী তার কবরের জন্য যে জায়গা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী এই কোরআন পাঠ চলছে। এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ধনবাড়ির এই নওয়াব আলী চৌধুরীর কবরের পাশে অবিরাম কোরআন তেলাওয়াতের বিষয়টি দেখতে অনেকেই দূর-দুরান্ত হতে আসেন।সূত্র-টিবিটি নিউজ।

এই বিভাগের আরও সংবাদ